মেহেরপুর ( Meherpur )
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খুলনা বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ জেলার নাম মেহেরপুর( Meherpur )। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই জেলার বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে (বর্তমান মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত ও শপথ গ্রহণ করেছিল, যা এই জেলাকে অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করেছে। ১৯৮৪ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি মেহেরপুরকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
নামকরণ:
মেহেরপুর জেলার নামকরণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন ঐতিহাসিক দলিল না থাকলেও মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী সর্বাধিক গ্রহণযোগ্যমত হচ্ছে ষোড়শ শতাব্দীতে বা তার কিছুপরে এই অঞ্চলে দরবেশ মেহের আলী শাহ নামক একজন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন ও খ্যাতিমান ইসলাম প্রচারক বসবাস করতেন। এই পূন্যাত্মা ও মরমী সাধকের নামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অঞ্চলের নাম হয় মেহেরপুর।
অন্যএকটি মতে, বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও বচনকার পন্ডিত মিহির এবং তাঁর বিদুষী পুত্রবধু (যার খনার বচন বিখ্যাত) ভৈরব নদীর তীরবর্তী এই অঞ্চলে বাস করতেন। তাঁদের নামানুসারে এই স্থানের নাম প্রথমে রাখা হয় মিহিরপুর। পরবর্তীতে শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ‘মেহেরপুর’ এ রূপ নেয়।
ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো:
জেলাটি ৮৮.৩৪° থেকে ৮৮.৫৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ৭১৬.০৮ বর্গ কি.মি.। মেহেরপুর জেলার উত্তরে কুষ্টিয়া ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দিক্ষণে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে কুষ্টিয়া জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। এই জেলা মোট ০৩টি উপজেলা (মেহেরপুর সদর, গাংনী এবং মুজিবনগর), ০৩টি থানা, ২০টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১৯৯টি মৌজা, ২৫৯টি গ্রাম ও ০২ টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব:
- ঐতিহাসিক মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও কমপ্লেক্স,
- আমঝুপি নীলকুঠি,
- বলরাম হাঁড়ির আখড়া,
- ভাটিপাড়া নীলকুঠি ও ডি. সি. ইকো পার্ক,
- ঐতিহাসিক বোস বাড়ি,
- স্বামী নিগমানন্দের আশ্রম।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:
- মোহাম্মদ ছহিউদ্দিন,
- আহমাদ আলী,
- অধ্যাপক এমএ খালেক,
- মাসুদ অরুন,
- আমজাদ হোসেন প্রমুখ।
প্রধান নদ-নদী:
ভৈরব নদী, মাথাভাঙ্গা নদী, কাজলা নদী, ইছামতি নদী।