গোপালগঞ্জ ( Gopalgonaj )
মধুমতি নদীর তীরে অবস্থিত গোপালগঞ্জ ( Gopalgonaj ) জেলা বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল, যা ১৯৮৪ সালে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই জেলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান (টুঙ্গিপাড়া) হিসাবে সুপরিচিত।
নামকরণ :
প্রাচীনকালে বর্তমান গোপালগঞ্জ শহরটি ‘রাজগঞ্জ’ নামে একটি ছোট বাজার হিসাবে পরিচিত ছিল। বৃটিশ শাসনামলে সিপাহী বিদ্রোহের সময় রাণী রাসমণি এক উচ্চপদস্থ ইংরেজ সাহেবের জীবন রক্ষা করেন। পুরস্কার হিসাবে বৃটিশ সরকার তাঁকে মকিমপুর এস্টেটের জমিদারী এবং রাণী উপাধী দেয়।
রাণী রাশমনির এক স্নেহস্পদ নাতি ছিলেন, যার নাম নব গোপাল। রাণী তাঁর নাতির নামকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজগঞ্জ বাজারের ‘গঞ্জ’ শব্দের সাথে নাতির নাম ‘গোপাল’ যুক্ত করেন। এভাবে পুরানো ‘রাজগঞ্জ’ নাম পরিবর্তীত হয়ে ‘গোপালগঞ্জ’ নামের উৎপত্তি হয়।
ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো :
গোপালগঞ্জ জেলা 00000000000000000000000 দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই জেলার উত্তরে ফরিদপুর, দক্ষিণে পিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলা, পূর্বে মাদারিপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে নড়াইল ও বাগেরহাট জেলা অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ১৪৬৮.৭৪ বর্গ কি.মি.।
গোপালগঞ্জ জেলা মোট ০৫ টি উপজেলা (গোপালগঞ্জসদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, মুকসুদপুর, কাশিয়ানী), ০৫টি পৌরসভা এবং ৬৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। এই জেলায় সংসদীয় আসন সংখ্যা ০৩ টি।
দর্শনীয়স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা :
- টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, পৈতৃক বাড়ি,
- জাদুঘর ও গ্রন্থাগার;
- উলপুর জমিদার বাড়ি,
- আড়পাড়া জমিদার বাড়ি,
- গিরিশচন্দ্র সেনের জমিদার বাড়ি,
- উজানীর জমিদার বাড়ি,
- বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ,
- ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি,
- সুকতাইল মঠবাড়ি,
- বলাকইড় পদ্মবিল,
- শেখ রাসেল শিশুপার্ক।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব :
- হরিচাঁদ ঠাকুর,
- গুরুচাঁদ ঠাকুর,
- কবিয়াল মুকুন্দ দাস,
- সুকান্ত ভট্টাচার্য,
- ফররুখ আহমদ,
- রমেশচন্দ্র মজুমদার,
- অনিল কুমার রায় চৌধুরী,
- কাফি খাঁন,
- চম্পা,
- ববিতা,
- সুচন্দা,
- শামসুল হক।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব :
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- শেখ হাসিনা,
- শেখ ফজলুল হক মণি,
- শেখ মুজিবুর রহমান হাওলাদার,
- শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ,
- খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ,
- খন্দকার শামস উদ্দিন আহমেদ।
প্রধান নদ-নদী : মধুমতি, কুমার, ঘাঘর, চন্দনা-বারাসিয়া নদী।