যশোর ( Jashore )
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত খুলনা বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহি ও গুরুত্বপূর্ণ জেলার নাম যশোর ( Jashore ) । ১৭৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম শত্রুমুক্ত এই জেলাটি শীতকালে সুস্বাদু খেজুরের গুড় ও পাটালির জন্য দেশজোড়ে খ্যাতি রয়েছে। প্রবাদ আছে “যশোরের যশ, খেজুরের রস”।
নামকরণ :
যশোর জেলার নামকরণ নিয়ে দুটি সুপরিচিত মতবাদ বা জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। যার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, মহারাজা প্রতাপাদিত্যের পিতা বিক্রমাদিত্য ও তাঁর সহযোগী বসন্তরায় তৎকালীন বাংলার রাজধানী ‘গৌড়’ থেকে সমস্ত ধন-সম্পদ ও শ্রী হরণ করে এই অঞ্চলে নিয়ে আসেন। গৌড়ের যশ হরণ করে এই নতুন রাজ্যের শ্রীবৃদ্ধি করা হয়েছিল বলে এর নাম রাখা হয় যশোহর। পরবর্তীকালে এই ‘যশোহর’ শব্দটি লোকমুখে পরিবর্তিত হয়ে ‘যশোর’ নামে রূপ নেয়।
অন্য একটি মতে, আরবী শব্দ ‘জসর’ থেকে যশোর নামের উৎপত্তি। আরবী শব্দ ‘জসর’ অর্থ সেতু বা সাঁকো। প্রাচীনকালে পীর খান জাহান আলী এই অঞ্চলে যাতায়াত করার জন্য প্রচুর সাঁকো নির্মাণ করায় এই অঞ্চলের নামকরণ হয় ‘জসর’। মোঘল আমলের বই আইন-ই-আকবরী-তেও একে যশর লেখা হয়েছে।
ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো:
যশোর জেলা 00000000000 পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই জেলার উত্তরে ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলা, দক্ষিণে সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলা পূর্বে নড়াইল ও খুলনা জেলা পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য (চব্বিশ পরগনা জেলা)। যশোর জেলার মোট আয়তন ২৫৭৮.২০ বর্গ কি.মি। জেলাটি মোট ০৮টি উপজেলা (যশোর সদর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা, মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর এবং বাঘের পাড়া), ০৯টি থানা, পৌরসভা ০৮টি, ৯৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১৪৩৪টি মৌজা, ১৪৩৪টি গ্রাম ও ০৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।
দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা :
- মির্জানগর হাম্মামখানা,
- ভরত ভায়নার দেউল,
- চাঁচড়া রাজবাড়ী ও শিবমন্দির,
- শেখপুরা শাহী মসজিদ,
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি,
- যশোর কালেক্টর ভবন ও পার্ক,
- খাঁন জাহান আলী জামে মসজিদ,
- গাজী কালু ও চম্পাবতীর মাজার,
- গদখালী ফুলের রাজ্য,
- যশোর আইটি পার্ক,
- বেনাপোল স্থলবন্দর,
- বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত,
- দিনবন্ধু মিত্র,
- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার,
- ফররুখ আহমদ,
- মনোজ বসু,
- ধীরাজ ভট্টাচার্জ,
- খাজা চিশতী,
- ড. মহাম্মদ শহীদুল্লাহ (কর্মক্ষেত্র)।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:
- বাঘা যতীন,
- কিরনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়,
- শহীদ মশিউপর রহমান,
- অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন,
- অ্যাডভোকেট রওশন আলী,
- মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস,
- তরিকুল ইসলাম,
- অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,
- রফিকুল ইসলাম,
- স্বপন ভট্টচার্য।
প্রধান নদ-নদী :
ভৈরব নদ, কপোতাক্ষ নদ, চিত্রা নদী, মুক্তেশ্বরী নদী, বেগবতী নদী, হরিহর নদী।