বাগেরহাট ( Bagerhat )
বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বাঘেরহাট ( Bagerhat ) খুলনা বিভাগের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা। পঞ্চাদশ শতাব্দীতে বিখ্যাত সুফি সাধক খান জাহান আলী এই অঞ্চলে ‘খলিফাবাদ’ রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।
নামকরণ:
বাগেরহাট জেলার নামকরণ নিয়ে কিছুটা মতভেদ থাকলেও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্যমত হচ্ছে- প্রাচীনকালে বাগেরহাট শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদের মুন্সিগঞ্জ থেকে নাগেরবাজার পর্যন্ত একটি বিশাল বাঁক ছিল। এই নদী বাঁকের পাশে (বর্তমান পুরাতন বাজার এলাকা) একটি প্রসিদ্ধ হাট বসত। লোকমুখে এই হাটকে ‘বাঁকেরহাট’ বলা হতো। কালক্রমে এই ‘বাঁকেরহাট’ শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে আজকের ‘বাগেরহাট’ নামে রূপ নিয়েছে।
অন্য একটি মতে, প্রখ্যাত সুফি সাধক খান জাহান আলী (র:) এ অঞ্চলে বসতি স্থাপনের পর বর্তমান শহর এলাকায় প্রচুর বাগান তৈরি করেছিলেন। এই বাগ বা বাগান সংলগ্ন এলাকায় যে হাট বসত তা থেকে প্রথমে ‘বাগের আবাদ’ এবং পরবর্তীতে ‘বাগেরহাট’ নামে রূপ নিয়েছে।
ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো:
বাগেরহাট জেলা 00000000000000 পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ৫৮৮২.১৮ বর্গ কি.মি.। বাগেরহাট জেলার উত্তরে গোপালগঞ্জ জেলা ও নড়াইল জেলা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে পিরোজপুর জেলা ও বরগুনা জেলা পশ্চিমে খুলনা জেলা। বাগেরহাট মোট ০৯টি উপজেলা (বাগেরহাট সদর, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ,শরণখোলা, রামপাল, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, কচুয়া), ০৩টি পৌরসভা, ৭৫টি ইউনিয়ন, ৭২০টি মৌজা, ১০৪৭টি গ্রাম ও ০৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।
দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা :
- ষাট গম্বুজ মসজিদ,
- খান জাহান আলী (র:) এর মাজার ও দীঘি,
- নয় গম্বুজ মসজিদ,
- সিংগাইর মসজিদ,
- চুনাখোলা মসজিদ,
- কোদলা মঠ,
- রেজা খোদা মসজিদ ও জিন্দাপীর মসজিদ,
- সুন্দরবন,
- করমজল ও হারবাড়িয়া পর্যটন কেন্দ্র,
- কটকা ও কচিখালী সৈকত,
- মোংলা সমুদ্র বন্দর,
- চন্দ্রমহল ইকো পার্ক।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব:
- কবি রুদ্রমুহাম্মদ শহীদুল্লাহ,
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ,
- সতীশ চন্দ্রমিত্র,
- স্বদেশ বসু,
- আবুল কাশেম বয়াতি,
- ফকির আলমগীর,
- শেখ লুৎফর রহমান,
- আব্দুর রাজ্জাক,
- আনোয়ার হোসেন,
- মীর সাব্বির।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:
- মুকুন্দ বিহারী মল্লিক,
- সৈয়দ মোস্তাগউছুল হক,
- বিধুভূষণ বসু,
- ডা: মোজাম্মেল হোসেন,
- এএসএম মোস্তাফিজুর রহমান,
- শেখ কামরুজ্জামান টুকু,
- এমএএইচ সেলিম তালুকদার,
- আব্দুল খালেক।
প্রধান নদ-নদী: পশুর নদী, মধুমতি নদী, বলেশ্বর নদী, দড়াটানা নদী, পানগুছি নদী, ভৈরব নদ, চিত্রা নদী, রামপাল নদী, মংলা নদী, কচুয়া নদী, শেলমরি নদী।