ঝিনাইদহ ( Jhenaidha )
বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খুলনা বিভাগের ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক অঞ্চল ঝিনাইদহ( Jhenaidha )। সুপ্রাচীন ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ কৃষি এবং বিখ্যাত মরমী সাধকদের চরণ ভূমি হিসাবে এই জেলা দেশজুড়ে সমাদৃত।
নামকরণ:
সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতানুসারে প্রাচীনকালে এই অঞ্চলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা, চিত্রা ও কুমার নদীতে প্রচুর ঝিনুক পাওয়া যেত। স্থানীয় কথ্য ভাষায় গভীর জলাশয় বা নদীকে ‘দহ’ বালা হয়। তৎকালীন সময়ে ঝিনুক সংগ্রহকারীরা নদী থেকে ঝিনুক কুড়িয়ে পুড়িয়ে চুন তৈরি করতেন। ঝিনুক সমৃদ্ধ এই ‘দহ’ বা এলাকাটি ক্রমান্বয়ে ‘ঝিনুকদহ’ থেকে রূপান্তরিত হয়ে আজকের ‘ঝিনাইদহ’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো:
ঝিনাইদহ জেলা ৮৮°৪৫′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ হতে ৮৯°১৫′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ১৯৬৪.৭৭ বর্গ কি.মি.। ঝিনাইদহ জেলার উত্তরে কুষ্টিয়া জেলা, দক্ষিণে যশোর ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে মাগুরা ও রাজবাড়ি জেলা এবং পশ্চিমে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জেলা। ঝিনাইদহ জেলা মোট ০৬টি উপজেলা (ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ, কোট চাঁদপুর, মহেশপুর), ০৬টি থানা, ০৬টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৯৪৬টি মৌজা, ১১৪৪টি গ্রাম এবং০৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।
দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা:
- গোরার মসজিদ,
- গলাকাটা মসজিদ,
- জোড়বাংলা মসজিদ,
- গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার,
- ঢোল সমুদ্র দীঘি,
- মল্লিকপুরের প্রাচীন বটগাছ,
- মিয়ার দালান,
- নলডাঙ্গা রাজবাড়ী মন্দির কপ্লেক্স,
- খালিশপুর নীলকুঠি ভবন,
- বীর শ্রেষ্ট হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর,
- কে পি বসুর বাড়ি,
- মরমী কবি পাগলা কানাইয়ের মাজার।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব:
- কবি গোলাম মোস্তফা,
- ড. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী,
- রেজাউদ্দিন স্টালিন,
- পাগলা কানাই,
- দুদু শাহ,
- সিরাজ সাঁই,
- মুস্তফা মনোয়ার,
- মনির খান,
- আইনুদ্দীন আল আজাদ, শিমলা।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:
- মসিউর রহমান,
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই,
- শহিদুল ইসলাম মাস্টার,
- আব্দুল ওহাব,
- শহীদুজ্জামান বেল্টু,
- অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, রাশেদ খান।
প্রধান নদ-নদী:
নবগঙ্গা নদী, কুমার নদ, কপোতাক্ষ নদ, চিত্রা নদী, বেগবতী নদী, গড়াই নদী, ইছামতি নদী, কালিগঙ্গা নদী, ভৈরব নদী এবং কোদলা নদী।