কুষ্টিয়া ( Kushtia )
বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলার নাম কুষ্টিয়া ( Kushtia )। বাউল সম্রাট লালন শাহ এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজরিত এই এলাকাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে গণ্য করা হয়। কুলফী মালাই, তিলের খাজা কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী কাবার, যা দেশজুড়ে সমাদৃত।
নামকরণ:
কুষ্টিয়া নামকরণ নিয়ে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো- প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে প্রচুর উন্নত মানের পাট চাষ হতো, স্থানীয় অধিবাসীরা এই পাটকে আঞ্চলিকভাষায় ‘কোষ্টা’ বা ‘কুষ্টি’ বলে ডাকতো। এই ‘কুষ্টি’ বা ‘কুষ্টা’ শব্দ কালক্রমে বিবর্তিত হয়ে ‘কুষ্টিয়া’ নামের উৎপত্তি হয়েছে।
ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো:
কুষ্টিয়া জেলা ৮৮°২৩′ হতে ৮৯°২২′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ১৬২১.১৫ বর্গ কি.মি.। কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে পদ্মা নদীর অপর তীরে রাজশাহী, নটোর ও পাবনা জেলা, দক্ষিণে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা, পূর্বে রাজবাড়ী জেলা, পশ্চিমে মেহেরপুর জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা। এই জেলা মোট ০৬ টি উপজেলা (কুষ্টিয়া সদর, দৌলতপুর, কুমারখালী, মিরপুর, ভেড়ামারা, খোকসা), ০৫টি পৌরসভা, ৭১টি ইউনিয়ন, ৯৭৮টি গ্রাম ও ০৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।
দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা :
- লালন শাহের মাজার,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি,
- মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা,
- সোহাগপুর জেনানা মসজিদ,
- টেঁকনাথের জোড় বাংলা মন্দির,
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু,
- রেনউইক যজ্ঞেম্বর বাঁধ ও পার্ক,
- লালন একাডেমি।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব:
- ফকির লালন শাহ,
- গগণ হরকরা,
- খোদাবক্স সাঁই,
- মীর মোশাররফ হোসেন,
- ড. কাজী মোতাহার হোসেন,
- মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা,
- কাঙাল হরিনাথ মজুমদার,
- জলধর সেন,
- আজিজুর রহমান,
- আব্দুল জব্বার খন্দকার নুরুল আলম।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব :
- ব্যরিস্টার আমীর-উল-ইসলাম,
- শাহ আজিজুর রহমান,
- কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী,
- শহীদ গোলাম কিবরিয়া,
- আব্দুল রউফ চৌধুরি,
- হাসানুল হক ইনু,
- মাহবুবউল আলম হানিফ,
- সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী।
প্রধান নদ-নদী:
পদ্মা নদী, গড়াই নদী, মাথাভাঙ্গা নদী, কুমার নদ, কালীগঙ্গা নদী, হিসনা নদী।