শরীয়তপুর জেলা
শরীয়তপুর ( Shariatpur ) জেলা বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক জেলা। পূর্বে এটি মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্ভূক্ত ছিল এবং পরবর্তী ১৯৮৪ সালে মাদারীপুরের পূর্বাংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
নামকরণ : উপমাহাদেশের প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক এবং ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবর্তক হাজী শরীয়তউল্লাহর নামানুসারে শরীয়তপুর জেলার নামকরণ হয়েছে।
ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো : শরীয়তপুর জেলা ২৩°০১´ থেকে ২৩°২৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°১৩´ থেকে ৯০°৩৬´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। শরীয়তপুর জেলার মোট আয়তন ১১৮১.৫৩ বর্গ কিলোমিটার। এই জেলার উত্তরে মুন্সিগঞ্জ, দক্ষিণে বরিশাল, পূর্বে চাঁদপুর এবং পশ্চিমে মাদারিপুর জেলা অবস্থিত।
শরীয়তপুর জেলায় মোট ৬টি উপজেলা (শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা এবং গোসাইরহাট), ৫টি পৌরসভা, ৬৪টি ইউনিয়ন, ৬০৭টি মৌজা এবং ১২৩০ টি গ্রাম রয়েছে।
দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা : শরীয়তপুর জেলা সৌন্দর্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শনে ভরপুর যেমন- রুদ্রকর মঠ, ধানুকা মনসা বাড়ি, রামসাধুর আশ্রম, ফতেহজংপুর দূর্গ, বগরা কুঠি, বুড়িরহাট জামে মসজিদ, শুয়েশ্বর দরবার শরীফ, জ্বীনের মসজিদ, মহিষাঢ় বড় দিঘী, হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি, ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি, পদ্মা ব্রিজ এবং নড়িয়া ফ্যান্টাসি কিংডম।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব : আবু ইহসাক, অতুল প্রসাদ সেন, সাবিত্রী রায়, আনন্দনাথ রায়, দীনেশরঞ্জন দাস, স্বর্ণকমল ভট্টাচার্য, গীতা দত্ত, দেবদাস চক্রবর্তী, আব্দুর রাজ্জাক, বজেন্দ্রকুমার দে, শামীম শিকদার, গোপাল চন্দ্র ভট্টচার্য এবং গুরু প্রসাদ সেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : হাজী শরীয়ত উল্লাহ, আব্দুর রাজ্জাক এবং কর্ণেল (অব.) শওকত আলী।
উল্লেখযোগ্য নদ-নদী : পদ্মা, মেঘনা, কীর্তিনাশা, পালং, জয়ন্তী এবং ধর্মগঞ্জ।