টাঙ্গাইল জেলা
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চ ঢাকা বিভাগের অন্যতম বৃহ্ত্তর প্রশাসনিক এলাকা টাঙ্গাইল ( Tangail ) জেলা। এই জেলা তাঁর তাঁত শিল্প, শাড়ি (টাঙ্গাইল শাড়ি), চমচম এবং ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানের জন্য সুপরিচিত। টাঙ্গাইল ১৯৬৯ সালে একটি পৃথক জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
নামকরণ : টাঙ্গাইল জেলার নামকরণ নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিকমত প্রচলিত আছে যার মধ্যে সর্বাধিক বেশি গ্রহণযোগ্যমত হচ্ছে- এই অঞ্চলের ভূমি উঁচি ও ঢালু ছিল যাকে স্থানীয়রা ‘টান’ বলত। কৃষিজমির সীমানাকে বলা হতো ‘আইল’। এই ‘টান’ ও ‘আইল’ যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে টাঙ্গাইল নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো : টাঙ্গাইল জেলা ২৪°০১´ থেকে ২৪°৪৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৪৪´ থেকে ৯০°১৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। টাঙ্গাইল জেলার উত্তরে জামালপুর, দক্ষিণে ঢাকা ও মানিকগঞ্জ, পূর্বে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর এবং পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ জেলা অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ৩৪২৪.৩৮ বর্গ কিলোমিটার।
টাঙ্গাইল জেলা মোট ১২ টি উপজেলা (টাঙ্গাইল সদর, মির্জাপুর, মধুপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, সখীপুর, গোপালপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঁঞাপুর, বাসাইল এবং ধনবাড়ি), ১১ টি পৌরসভা, ১২০টি ইউনিয়ন এবং ২৫১৬ টি গ্রাম রয়েছে।
দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা : মহেরা জমিদার বাড়ি, করটিয়া জমিদার বাড়ি, ধনবাড়ি নবাব প্যালেস, আতিয়া মসজিদ, উপেন্দ্র সরোবর, মধুপুর জাতীয় উদ্যান, যমুনা বহুমুখী সেতু (বঙ্গবন্ধু সেতু), পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, বসন্তুপুর ও ডিসি লেক।
উল্লেখযোগ্য নদ-নদী : যমুনা, ধলেশ্বরী, বংশী, লৌহজং এবং ঝিনাই।