ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া ও ভ্রমণ গাইড
বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা হয় শ্রীমঙ্গলকে। চারদিকে পাহাড়, মাইলের পর মাইল সবুজ চা বাগান আর বনের ভেতর দিয়ে ট্রেনের ঝকঝক শব্দে যাত্রা করার আনন্দই আলাদা। ঢাকা থেকে যারা পাহাড়ি পথে ট্রেন ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের জন্য শ্রীমঙ্গল হলো সেরা গন্তব্য।
আপনি কি নিয়মিত ভ্রমণ করেন? অথবা পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাচ্ছেন? তাহলে এই ব্লগটি আপনার জন্য। এখানে আমরা Dhaka to Sreemangal Train Ticket and Schedule, বর্তমান ভাড়া এবং প্রয়োজনীয় সকল টিপস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
শ্রীমঙ্গল কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি প্রকৃতির এক অনন্য ভাণ্ডার। ঢাকার ইট-পাথর ঘেরা জীবন থেকে মুক্তি পেতে শ্রীমঙ্গলের সবুজ প্রকৃতি আর বৃষ্টির দিনে পাহাড়ের রূপ দেখার জন্য ট্রেনের চেয়ে ভালো বাহন আর হতে পারে না। ঢাকা থেকে সিলেটের পথে যে ট্রেনগুলো চলাচল করে, সেগুলোই মূলত শ্রীমঙ্গল স্টেশনে বিরতি দেয়। ট্রেনে যাওয়ার সময় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গা ঘেঁষে ট্রেন চলার মুহূর্তটি আপনার সারাজীবন মনে থাকবে।
ঢাকা টু শ্রীমঙ্গল আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকা (কমলাপুর) থেকে শ্রীমঙ্গল রুটে বর্তমানে ৪টি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। আপনার সুবিধামতো নিচের টেবিল থেকে সময় দেখে নিন:
ঢাকা টু শ্রীমঙ্গল ট্রেনের সময়সূচী:
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নং | ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় | শ্রীমঙ্গল পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস | ৭০৯ | সকাল ০৬:২০ মিনিট | সকাল ১০:৩২ মিনিট | মঙ্গলবার |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস | ৭১৭ | সকাল ১১:১৫ মিনিট | বিকেল ০৪:০১ মিনিট | নেই |
| কালনী এক্সপ্রেস | ৭৭৩ | দুপুর ০২:৫৫ মিনিট | সন্ধ্যা ০৭:০২ মিনিট | শুক্রবার |
| উপবন এক্সপ্রেস | ৭৩৯ | রাত ১০:০০ মিনিট | রাত ০২:০৬ মিনিট | বুধবার |
সিলেট টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী:
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নং | শ্রীমঙ্গল থেকে ছাড়ার সময় | ঢাকা পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস | ৭১০ | বিকাল ০৫:৪১ মিনিট | রাত ১০:৪০ মিনিট | মঙ্গলবার |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস | ৭১৮ | দুপুর ০২:৪৫ মিনিট | সন্ধ্যা ০৭:২৫ মিনিট | নেই |
| কালনী এক্সপ্রেস | ৭৭৪ | সকাল ০৮:২০ মিনিট | দুপুর ০১:০০ মিনিট | শুক্রবার |
| উপবন এক্সপ্রেস | ৭৪০ | রাত ০১:৪৪ মিনিট | ভোর ০৫: ৪৫ মিনিট | বুধবার |
মনে রাখবেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে সময় পরিবর্তন করতে পারে, তাই যাত্রার আগে অবশ্যই রেল সেবা অ্যাপ বা স্টেশনে খোঁজ নিন।
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল ট্রেনের টিকিটের ভাড়া (Fare List)
আপনার বাজেট এবং পছন্দের সিটের ধরন অনুযায়ী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| আসন শ্রেণী | ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার ( S-CHAIR ) | ২৭৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা এসি সিট ( SNIGDHA ) | ৫২৫ টাকা |
| শোভন ( SHOVAN ) | ১০০-২০০ টাকা |
| এসি সিট কেবিন ( AC-S ) | ৬৩০ টাকা |
| এসি কেবিন বাথ ( AC-B ) | ৯৪০ টাকা |
| ০১ম শ্রেণী চেয়ার ( F-SEAT ) | ৪২০ টাকা |
দ্রষ্টব্য: ভাড়ার হার যেকোনো সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিবর্তন করতে পারে।
যাত্রা পথে কোথায় কোথায় থামবে
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পথে ট্রেনগুলো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিরতি দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন
২. ভৈরব বাজার
৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
৪. আজমপুর
৫. শায়েস্তাগঞ্জ
৬. শ্রীমঙ্গল (আপনার গন্তব্য)
অনলাইনে ট্রেন টিকেট কাটার নিয়ম (Dhaka to Sreemangal Train Ticket and Schedule)
ট্রেন ট্র্যাকিং পদ্ধতি
আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় আছে তা জানতে ট্রেন ট্র্যাকিং করা খুবই জরুরি। ট্র্যাকিং করতে আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
TR <Space> Train Number (যেমন: TR 813) এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নাম্বারে। ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও সময় জানতে পারবেন।
শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থানসমূহ (Sightseeing in Sreemangal )
শ্রীমঙ্গল স্টেশনে নামার পর আপনি সহজেই অটো বা সিএনজি রিজার্ভ করে নিচের দর্শনীয় জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে পারেন:
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: ট্রেনের লাইন যেখানে বনের ভেতর দিয়ে গেছে।
- নীলকণ্ঠ টি কেবিন: যেখানে বিখ্যাত সাত রঙের চা পাওয়া যায়।
- মাধবপুর লেক: পাহাড়ের উপরে অপূর্ব একটি লেক, যেখানে নীল পদ্ম ফোটে।
- চা বাগান: ফিনলে, ভাড়াউড়া বা জেরিন চা বাগানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।
- বধ্যভূমি ৭১: মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান।
- হামহাম ঝরনা: যদি আপনি ট্রেকিং পছন্দ করেন।
যাত্রীদের জন্য জরুরি কিছু টিপস
আগে টিকেট কাটা: বর্তমানে প্রায় সকল রুটেই ট্রেনের টিকেটের চাহিদা অনেক বেশি, তাই ভ্রমণের ১০-১৫ দিন আগেই টিকেট কেটে রাখুন।
- লাগেজ: অতিরিক্ত লাগেজ বহন না করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রই সঙ্গে রাখুন।
- পরিবেশ রক্ষা: চা বাগান বা বনের ভেতর প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলবেন না।
- অগ্রিম টিকিট: উত্তরবঙ্গের এই রুটে টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টা বাজার সাথে সাথে টিকিট কাটার চেষ্টা করুন।
- আইডি কার্ড সাথে রাখুন: রেলওয়ের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ভ্রমনের সময় মূল এনআইডি (NID) কার্ড বা তার ছবি ফোনে রাখা বাধ্যতামূলক।
- খাবার ও পানি: ট্রেনে খাবার পাওয়া যায় তারপরও নিজস্ব পানির বোতল এবং শুকনো খাবার সাথে রাখুন।
- নিরাপত্তা: ট্রেনে আপনার মালামাল ও মোবাইলের দিকে খেয়াল রাখুন। অপরিচিত কারো দেওয়া কিছু খাবেন না।
- সময় জ্ঞান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- পরিচ্ছন্নতা: ট্রেনের ভেতরে বা রেলওয়ে স্টেশনে ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
- বগুড়া স্টেশন: বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনটি শহরের বেশ কাছেই অবস্থিত। স্টেশন থেকে নামার পর আপনি সহজেই রিকশা বা অটোতে করে শহরের যেকোনো প্রান্তে যেতে পারবেন।
স্ট্যান্ডিং টিকিট বা আসনবিহীন টিকিট
যদি কোনো কারণে সিট টিকেট না পান, তবে ট্রেন ছাড়ার অল্প সময় আগে স্টেশন কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত মোট আসনের ২৫% স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু করা হয়। তবে দীর্ঘ যাত্রায় দাঁড়িয়ে যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য হতে পারে।
টিকিট রিফান্ড পলিসি
- যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে ফেরত দিলে সার্ভিস চার্জ বাদে বাকি টাকা পাবেন।
- ৪৮ ঘণ্টার কম কিন্তু ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে ২৫% টাকা কাটা হবে।
- ২৪ ঘণ্টার কম কিন্তু ১২ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে ৫০% টাকা কাটা হবে।
- ০৬ ঘণ্টার কম সময় থাকলে কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।
রেলওয়ের প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার
জরুরি প্রয়োজনে নিচের নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন:
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
ফোন: ০২-৯৩৫৮৬৩৪
মোবাইলঃ ০১৭১১৬৯১৬১২
পার্সেল ও লাগেজ বুকিং
আপনি যদি বড় কোনো মালামাল বা পার্সেল সাথে নিতে চান, তবে ট্রেনের পার্সেল ভ্যানে তা বুকিং করতে পারেন। এর জন্য আলাদা চার্জ প্রযোজ্য। প্রতিটি টিকেটের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের লাগেজ বিনামূল্যে বহন করা যায়, তবে অতিরিক্ত ওজনের জন্য বুকিং আবশ্যক।