সেন্টমার্টিন দ্বীপ (St Martin’s Island)

Saint Martin Tour

সেন্টমার্টিন দ্বীপ (St Martin’s Island) এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। যার চারপাশে নীল জলের সমারোহ। দেশের সর্ব দক্ষিণের স্বর্গ ও বলা হয় সেন্টমার্টিনকে। এই কোরাল দ্বীপটি কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার এবং টেকনাফ থেকে ০৯ কিলোমিটার দক্ষিনে এবং মায়ানমার এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার নাফ নদীর মোহনায় অসম্ভব সুন্দর এই দ্বীপটির এর অবস্থান। দ্বীপটির আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। সারি সারি নারিকেল গাছ থাকায়, নারিকেল জিঞ্জিরা নামে দ্বীপটির খ্যাতি রয়েছে। জনশ্রুতি আছে অনেক বছর আগে আরবের দারুচিনি বোঝাই করা একটি বিশাল বানিজ্যিক জাহাজ এই দ্বীপে পানির নিচে থাকা একটি বড় পাথরের সাথে ধাক্কা খেয়ে ভেঙ্গে যায় এবং জাহাজে থাকা দারুচিনি সারা দ্বীপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে এটিকে দারুচিনি দ্বীপও বলা হয়। এই দ্বীপে সুটিং হয়েছিল জনপ্রিয় সিনেমা “দারুচিনি দ্বীপ” এর।

সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এ দ্বীপে পর্যটন মৌসুমে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে মোট ৭-৮ টি জাহাজে করে প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক আসা যাওয়া করে। সীমাহীন নীল আকাশের সাথে সাগরের নীল জলের মিতালী। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি নারিকেল গাছ এই দ্বীপকে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য। যা ভ্রমণ পিপাষু মানুষকে এক অন্যরকম আকর্ষনে টেনে নিয়ে যায়। এ দ্বীপে অনেকেই দিনে এসে দিনেই ফিরে যায়। এই রকম প্ল্যান না করাই উত্তম। সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপুভোগ করতে অন্তত এক রাত থাকতেই হবে। দুই রাত থাকলে আররো ভালো, ছেড়া দ্বীপ ভ্রমণের জন্য একটা দিন হাত থাকে। পারলে ভরা পূর্নিমায় ভ্রমণ করুন সেন্টমার্টিন, পূর্ণিমার রাতে প্রিয় মানুষটির হাত ধরে ঘুরে বেড়ান পুরো দ্বীপ।

সেন্টমার্টিনের সকল সার্ভিস, ফ্যামেলী, কাপল, সলো এবং কর্পোরেট ট্যুরের জন্য যোগাযোগ করুন

সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়

সেন্টমার্টিন যাবার মোটামুটি সব শিপই ছাড়ে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে। তাই সেন্টমার্টিন যেতে চাইলে দেডের যেকোন প্রান্ত থেকে আগে টেকনাফ চলে যান। টেকনাফ থেকে শীপে, ট্রলারে অথবা স্পীড বোটে করে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। একইসাথে কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে প্রথমে চলে কক্সবাজার, সেখান থেকে টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। অথবা কক্সবাজার BIWTA এর ঘাট থেকে প্রতিদিন এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে যায়, সেটাতে করেও আপনি সেন্টমার্টিন পৌছাতে পারেন। চট্টগ্রাম শহর থেকেও সরাসরি এমভি বে ওয়ান-এ করে আপনি সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে টেকনাফ যাবেন যেভাবে

ঢাকার প্রায় সব জায়গা থেকে যেমন কলাবাগান, সায়দাবাদ, আবদুল্লাপুর, গাবতলী, আরামবাগ, কমলাপুর, থেকে বিলাস বহুল সব গাড়ি ছাড়ে টেকনাফের উদ্দ্যেশ্যে। রাজধানী ঢাকা থেকে যে সকল বাস কক্সবাজারে উদ্দ্যেশ্যে ছাড়ে – শ্যামলী, সেন্টমার্টিন পরিবহন, জেদ্দা এক্সপ্রে, হেরিটেজ ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন হুন্দাই, রয়েল কোচ, তুবা লাইন, ইম্পেরিয়াল সার্ভিস, রিলাক্স কিং সার্ভিস, গ্রীন লাইন, ইত্যাদি। নন এসি বাসের ভাড়া ১২০০ টাকা – ১৩০০ টাকা। আর এসি বাসের ভাড়া ১৫০০ টাকা – ২৫০০ টাকা। এইসব গাড়ি ঢাকা থেকে ০৮-১০ টার মধ্যেই ছেড়ে যায়। সকাল ০৮টার মধ্যেই টেকনাফ পৌঁছে যায়।

কক্সবাজার হয়ে যেভাবে টেকনাফ যাবেন

ঢাকার প্রায় সব জায়গা থেকে যেমন সায়দাবাদ, আবদুল্লাপুর, গাবতলী, আরামবাগ, কমলাপুর, এয়ারপোর্ট থেকে বিলাস বহুল সব গাড়ি ছাড়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে উদ্দ্যেশ্যে। এছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, পাবনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর সহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে সরাসরি বাস সার্ভিস আছে কক্সবাজারে। রাজধানী ঢাকা থেকে যে সকল বাস কক্সবাজারে উদ্দ্যেশ্যে ছাড়ে – শ্যামলী, টিআর, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, সোহাগ, গ্রীন লাইন, সৈাদিয়া, দেশ ট্রাভেলস ইত্যাদি। নন এসি বাসের ভাড়া ৯০০টাকা – ১১০০ টাকা। আর এসি বাসের ভাড়া ১৪০০ টাকা – ২৫০০ টাকা। যারা বিমানে যেতে চান ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার বিমানে যেতে পারবেন।
কক্সবাজার থেকে সি এন জি, জিপ, হাইচ এবং লোকাল বাসেও টেকনাফ যেতে পারবেন। বাসে গেলে ১৮০-২২০ টাকা ভাড়া গুনতে হবে। সি এন জি তে গেলে খরচ পড়বে ২৫০-৩০০ টাকা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যেতে মোটামুটি সময় লাগে দুই ঘন্টা। সেন্টমার্টিনের জাহাজে উঠতে চাইলে আপনাকে ভোর ০৬টায় কক্সবাজার থেকে রওনা দিতে হবে

চট্টগ্রাম থেকে যেভাবে টেকনাফ যাবেন

চট্টগ্রাম শহরের সিনেমা প্যালেস থেকে রাত ১২টায় সৌদিয়া এবং এস আলম বাস ছাড়ে টেকনাফের উদ্দ্যেশ্যে। এছাড়াও দামপাড়া এবং গরিবুল্লাহ শাহ্ মাজার থেকে কিছু বাস চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ রুটে নিয়মিত চলাচল করে। এই রুটে বাসে যেতে খরচ পড়বে ৬০০-১২০০ টাকা।

খাগড়াছড়ি থেকে যেভাবে টেকনাফ যাবেন

অনেক পর্যটকই সাজেক বেড়িয়ে কক্সবাজার / সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে চান। তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে রাত ০৮:৩০ মিনিট এবং রাত ১০টায় শান্তি পরিবহনের দুইটা গাড়ি কক্সবাজার এবং টেকনাফের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে যায়। খাগড়াছড়িতে থেকে চাইলে আপনি এখন খুব সহজেই কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। এই রুটে টেকনাফ পর্যন্ত ভাড়া পড়বে ——– টাকা।

টেকনাফ থেকে যেভাবে সেন্টমার্টিন যাবেন

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন রুটের জাহাজ গুলো সাধারণত অক্টোবরের শেষ অথবা নভেম্বরের শুরু থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলাচল করে। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে চলাচলকারী শীপের মধ্যে রয়েছে বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল, বে ক্রুজ ওয়ান, কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইনিং, আটলান্টিক, পারিজাত, এম ভি ফারহান, পারিজাত, গ্রীন লাইন। এইসব শীপে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। জাহাজের মান এবং ক্লাস অনুযায়ী টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়া এবং আসার ভাড়া ৮৫০-১৬০০ টাকা। টেকনাফের জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন ০৯.০০ থেকে ০৯.৩০ টার মধ্যেই জাহাজ গুলো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যশ্যে ছেড়ে যায়। ০৩.০০ – ০৩.৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিন জেটি ঘাট থেকে টেকনাফের উদ্দ্যেশ্যে ছাড়ে। সকল জাহাজের টিকেট যাওয়া আসার একসাথে করতে হয়। তাই কবে ফিরবেন সেই ডেইট টা উল্ল্যেখ করে দিবেন।

সেন্টমার্টিনের শীপ টিকেটের জন্য যোগাযোগ করুন:

সাধারণত অক্টোবরের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত শীপ চলাচল করে। এরপরে বৈরি আবহাওয়ার কারনে প্রশাসন শীপ চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে যারা বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে সেন্টমার্টিন যেতে চান তারা ট্রলার অথবা স্পীড বোটে টেকনাফ থেকে যেতে পারবেন। তবে উত্তাল সাগরে এই অ্যাডভেঞ্চার জার্নি খুব একটা নিরাপদ নয়। সাধারণত দূর্ঘটনা ঘটে না। তবে ঘটে গেলে কিছুই করার থাকবেনা। তাই এই যাত্রা শুরুর আগে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নিবেন। উত্তাল সাগরের ভয়ংকর রূপ এবং অন্য রকম এক সেন্টমার্টিন দেখতে চাইলে ওই সময়ে ট্রলার এবং স্পীড বোট ছাড়া আর কোন অপশন নাই। ট্রলারে সেন্টমার্টিন যাওয়ার ভাড়া ৩৫০-৪০০ টাকা।

সেন্টমার্টিনের হোটেল এবং রিসোর্টের তথ্য

  • ০১
  • ০২
  • ০৩

স্কুবা ডাইভিং ও স্নোরকেলিং

সেন্টমার্টিনে স্বচ্ছ জলের নিচে দেখা মিলবে বহু বর্ণের জলজ উদ্ভিদ এবং বিচিত্র সব জীবন্ত কোরালের। সেন্টমার্টিনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমন করেন, অথচ একটু দূরেই সাগরে নিচে যে অপরূপ এক জগত আছে, সেটা পর্যটকদের কাছে অজানাই থেকে যায়। ট্যাঙ্ক ভর্তি কৃত্তিম অক্সিজেন নিয়ে যখন আপনি সাগরের তলদেশে যাবেন, তখন আপনার এক একটি মূহূর্ত আপনি আলাদাভাবে অনুভব করতে পারবেন। সাগরের তলদেশে বিভিন্ন প্রজাতির মাছেদের সাথে সাতার কাটতে কাটতে আপনি এই অদ্ভূত সুন্দর জগতের প্রেমে পড়ে যাবেন। এক মুহূর্তের জন্য ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করবে না। সেন্টমার্টিনে স্কুবা ডাইভিং এবং স্নোরকেলিং করা যায় প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। স্কুবা ডাইভিং এবং স্নোরকেলিং এর জন্য যোগাযীগ এবং খরচ নিচে দেয়া হল।

  • শুধুমাত্র স্নোরকেলিং – ৭০০ টাকা
  • শুধুমাত্র স্কুবা ডাইভিং – ২৫০০ টাকা
  • একসাথে স্নোরকেলিং এবং স্কুবা ডাইভিং – ৩০০০ টাকা
স্কুবা ডাইভি এবং স্নোরকেলিং এর জন্য যোগাযোগ করুন
  • কোরাল ভিউ রিসোর্ট সেন্টমার্টিন – 01796446653
  • ঢাকা ডাইভার্স ক্লাব – 01711671130
  • ওসেনিক স্কুবা ডাইভিং সার্ভিং – 01711867991

কোথায় খাবেন সেন্টমার্টিনে

সেন্টমার্টিনে বেশীরভাগ হোটেল এবং রিসোটেই খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যে হোটেল বা রিসোর্টে থাকবেন বুকিং দেয়ার সময়েই জিজ্ঞেস করে নিবেন সেখানে খাবারে ব্যবস্থা আছে কিনা। বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের সাথে মুরগি, গরু ও ছাগলের মাংসও পাওয়া যায়। প্রতিটা রেষ্টুরেন্টই রয়েছে বার বি কিউ এর বিশেষ ব্যবস্থা। সেন্টমার্টিনে ফিস এবং চিকেন এর বার বি কিউ ই বেশী হয়। বাজারে অনেকগুলো রেষ্টুরেন্ট আছে যেগুলোতে খাবার পাবেন। যারা দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসবেন তারা বাজারের রেষ্টুরেন্ট গুলোতেই খাবারের পর্ব সেরে নিতে পারবেন।

বাজারের যেসকল রেষ্টুরেন্টে গিয়ে খেতে পারেন তার কয়েকটি হল – আসাম হোটেল, সি বিচ, সেন্টমার্টিন, কুমিল্লা হোটেল, কেয়ারি মারজান রেস্তরা, হোটেল আল্লার দান, বাজার বিচ, রিয়েল রেস্তরা, হাজী সেলিমা পার্ক, হোটেল সাদেক, সেন্টমার্টিন টুরিষ্ট পার্ক ইত্যাদি। তবে খাবারের আগে অবশ্যই দাম ঠিক করে নিবেন।

সেন্টমার্টিনে আরেক প্রসিদ্ধ জিনিস হল ডাব, এই ডাবে পানি থাকে বেশী, মিষ্টি এবং অনেক সুস্বাদু। সেন্টমার্টিন গেলে ডাব খাওয়া কোন ভাবেই মিস করবেন না। সিজনে ডাবের দাম তুলনামূলক একটু বেশি থাকে। যারা মাছ খাতে খুব পছন্দ করেন তাদের জন্য সেন্টমার্টিন যেন স্বর্গ, কালা চাঁদা, রূপচাঁদা, ইলিশ, কোরাল, টুনা, সেলমন, সুরমা, লবষ্টার, কোরাল ইত্যাদি নানান ধরণের ও স্বাদের সামুদ্রিক মাছ আছে আপনার অপেক্ষায়। চাইলে বাজার থেকে আপনার পছন্দের মাছটি কিনে নিয়ে আপনার হোটেলে বার বি কিউ ও করতে পারেন। সুরমা, লইট্যা, ছুড়ি, লাক্ষ্যা, ও বিভিন্ন প্রাজাতির সামুদ্রিক মাছের সুটকির আইটেমও পাওয়া যায় রেষ্টুরেন্ট গুলোতে। ফেব্রুয়ারীর শেষ দিক থেকেই তরমুজ পাওয়া যায় সেন্টমার্টিনে।

সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ খরচ

যে কোন জায়গায় ভ্রমণ খরচ কত হবে সেটা নির্ভর করে সম্পূর্ণ আপনার উপর। আপনি কত খরচ করবেন / কত খরচ করতে চান? আপনি কিভাবে যাচ্ছেন? কোথায় কেমন করে থাকছেন? কি কি খাবেন? আর কোন সময়ে ভ্রমণ করছেন সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ, তার উপর খরচ অনেক বেশী উঠানামা করে। পিক সিজনে এবং সরকারী যেকোন ছুটির দিন খরচের পরিমান অন্যান্য দিনের থেকেও একটু বেশীই হয়ে থাকে। একরাত থাকা খাওয়াসহ, কম খরচে মোটামুটি মানের একটি হোটেল থাকলে ০১ রাত ০২ দিনে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে কেমন খরচ হবে আপনাদের সুবিদার্থে তার একটা ছোট্ট ধরণা নিচে দেয়া হল।

যাতায়াত খরচ

➛ ঢাকা থেকে টেকনাফ বাস ভাড়া – যাওয়া ও আসা সহ ২৪০০-২৬০০ টাকা (নন এসি বাস) ৩০০০-৫০০০ টাকা (এসি বাস)
➛ শিপ ভাড়া – যাওয়া আসা সহ ৯০০ টাকা ওপেন ডেক, ১১০০ – ১৬০০ টাকা (এসি)
➛ ছেড়া দ্বীপ ভ্রমণ – ট্রলার ভাড়া ২৫০ টাকা যাওয়া এবং আসা সহ।
➛ অটো বা ভ্যান – লোকাল যাতায়াতের জন্য অটো বা ভ্যান ভাড়া ২০০ – ২৫০ টাকা
➛ অন্যান্য খরচ – ২০০ টাকা

খাবার খরচ

➛ ঢাকা থেকে টেকনাফ পথে যাত্রা বিরতির খাবার ১০০–২০০ টাকা
➛ ভ্রমণের প্রথম দিন সকালের নাস্তা ৬০-১০০ টাকা
➛ ভ্রমণের প্রথম দিন দুপুরের খাবার ১৫০-২৫০ টাকা
➛ ভ্রমণের প্রথম দিন রাতের খাবার ২০০-৩০০ টাকা

➛ ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন সকালের নাস্তা ৬০-১০০ টাকা
➛ ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন দুপুরের খাবার ১৫০-২৫০ টাকা
➛ টেকনাফ থেকে ঢাকা যাত্রা বিরতির খাবার ১০০–২০০ টাকা

যারা আরো কমে খাবার খেতে চান বাজারে চলে গিয়ে নরমাল খাবার খেয়ে নিবেন। বাজারে রেষ্টুরেন্ট গুলোতে ডিম, সবজি, ভর্তা, ডাল, ছোট মাছ ইত্যাদি পাবেন। খাবারের আগে অবশ্যই দাম জিজ্ঞেস করে নিবেন।

একরাত থাকার খরচ

ষ্ট্যান্ডার্ড কাপল বা ডাবল রুমের ভাড়া ১৫০০-২০০০ এর মধ্যেই পেয়ে যাবেন। মোটামুটি মানের হোটেল বা রিসোর্টে থাকতে চাইলে খরচ পড়োবে ৮০০ – ১৫০০ টাকা। ছুটির দিন হলে ভাড়া কিছুটা বাড়বে। কয়েকজন মিলে রুম শেয়ার করলে জনপ্রতি ভাড়া অনেক কমে যাবে। যারা আরো অনেক কমে থাকতে চান, তারা স্থানীয় লোকদের বাড়িতে অল্প খরচে থাকতে পারবেন। যাদিও কাজটা একটূ সময় সাপেক্ষ।

সেন্টমার্টিন ট্যুর প্যাকেজ

সেন্টমার্টিনে যাওয়া আসার জন্য বাস টিকেট করা, শিপ টিকেট করা, রিসোর্ট বুকিং দেয়া অনেকের কাছেই ঝামেলার মনে হয়। তাই এসকল কাজের জন্য অনেকেই নির্ভর করেন ট্রাভেল এজেন্সির উপর। ট্যুর প্যাকেজগুলো সাধারণত একরাত এবং ২রাতের হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে যাওয়া আসা, থাকা খাওয়া সহ। রেট নির্ধারণ হয় মানের উপর যেমন কোন বাসে এবং শিপে নিয়ে যাবে, কোন ধরণের হোটেল / রিসোর্টে রাখবে, কি কি খাওয়াবে তার উপর। ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি এবং ট্যুর অপারেটর সেন্টমার্টিনে ট্যুর অপারেট করে। তাদের মধ্যেই ভালো একটি ট্যুর অপারেটর হচ্ছে “Tripssi” বাংলাদেশের বেষ্ট সার্ভিস অরিয়েন্টেড ট্যুর অর্গানাইজার। আপনারা পরিবার এবং কলিগদের নিয়ে নিশ্চিন্তে আপনাদের যেকোন ভ্রমণের সকল দ্বায়িত্ব দিয়ে দিতে পারেন তাদের উপর। মাত্র ১জন হলেই যে কোনদিন সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারেন এই “Tripssi” এর সাথে।

যোগাযোগ

Tripssi
Office: House#12, Sonargoan Janapath Road, Lift#07, Sector#11, Uttara, Dhaka 1230.
Phone: +8801
Email: mail.tripssi@gmail.com

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখবেন

  • প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আমাদের বাংলাদেশের একটি সম্পদ। তাই প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছু ভূলেও করবেন না।
  • সেন্টমার্টিনে প্রায় সব ধরণের মোবাইল অপারেটদের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তবে ফ্রিকোয়েন্সি কম থাকায় কিছু অপারেটরের সিম দিয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজ কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।
  • বর্তমানে সেন্টমার্টিনে নিয়মিত বিজিরি’র টহল চলে। তারা অনেক সময় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ১২টার পর বিচে থাকতে নিষেধ করে।
  • দয়াকরে প্লাস্টিক ও ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।
  • যারা কম খরচে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে চান তারা দয়াকরে ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে ভ্রমণে যান।
  • কেনাকাটা করতে অবশ্যই দরদাম করবেন
  • ছুটিরদিনে যেতে চাইলে আগে থেকেই সব কিছু যেমন বাসের টিকেট, শিপের টিকেট হোটেল বুকিং দিয়ে যাবেন।
  • সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতে কতগুলি বিপদজনক জায়গা রয়েছে সে সকল জায়গা দিয়ে সমুদ্রে নামবেন না।

আরো পড়ুন

Scroll to Top