ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া ও অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ নিয়ম: আপনার পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড!

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। পাহাড়, নদী আর সমুদ্রের এক অপূর্ব মিলনমেলা এই শহরটি। ব্যবসা-বাণিজ্য হোক কিংবা ভ্রমণ—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে প্রায় সবারই। আর এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আপনি কি নিয়মিত ট্রেনে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করেন? নাকি প্রথমবারের মতো ট্রেন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? অনলাইনে Dhaka To Chittagong Train Ticket and Schedule  কীভাবে কাটবেন বা কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা হবে, তা নিয়ে চিন্তিত? বিশেষ করে যারা টেকনিক্যাল বিষয়ে খুব বেশি দক্ষ নন, তাদের জন্য আমরা আজকের এই ব্লগে প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সহজভাবে তুলে ধরেছি।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ভ্রমণে ট্রেন কেন সেরা?

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার। বাসে এই পথটুকু যেতে অনেক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। কিন্তু ট্রেনে:

  • যানজটমুক্ত যাত্রা: নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।
  • আরামদায়ক আসন: দীর্ঘ পথ বসে থাকলেও ক্লান্তি কম লাগে, বিশেষ করে এসি ও স্নিগ্ধা ক্লাসগুলোতে।
  • নিরাপদ ভ্রমণ: সড়কপথের তুলনায় ট্রেন দুর্ঘটনা অনেক কম।
  • সুন্দর দৃশ্য: জানলার পাশে বসে গ্রামের সবুজ প্রকৃতি আর মেঘনা-গোমতী নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ও ছুটির দিন

ঢাকা (কমলাপুর) থেকে চট্টগ্রাম রুটে বেশ কিছু আন্তঃনগর এবং এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। আপনার সময় অনুযায়ী নিচের টেবিল থেকে ট্রেন বেছে নিতে পারেন:

ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী:
ট্রেনের নাম ট্রেন নং ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় চট্টগ্রাম পৌঁছানোর সময় সাপ্তাহিক ছুটি
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ৭৮৮ সকাল ০৭:০০ মিনিট দুপুর ১২:১৫ মিনিট সোমবার
মহানগর প্রভাতী ৭০৪ সকাল ০৭:৪৫ মিনিট দুপুর ০২:০০ মিনিট নেই
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৭০২ বিকাল ০৪:৩০ মিনিট রাত ০৯:৫০ মিনিট
মহানগর এক্সপ্রেস ৭২২ রাত ০৯:২০ মিনিট ভোর ০৪:৫০ মিনিট
তূর্ণা ৭৪২ রাত ১১:৩০ মিনিট সকাল ০৬:২০ মিনিট
চট্টলা এক্সপ্রেস ৮০২ দুপুর ০১:০০ মিনিট রাত ০৮:৩০ মিনিট
চট্টগ্রাম টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী:
ট্রেনের নাম ট্রেন নং চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার সময় ঢাকা পৌঁছানোর সময় সাপ্তাহিক ছুটি
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ৭৮৭ বিকাল ০৫:০০ মিনিট রাত ১০:১০ মিনিট
মহানগর গোধুলি ৭০৩ বিকাল ০৩:০০ মিনিট রাত ০৯:২৫ মিনিট
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৭০১ সকাল ০৭:০০ মিনিট দুপুর ১২:২০ মিনিট
মহানগর এক্সপ্রেস ৭২১ দুপুর ১২:৩০ মিনিট সন্ধ্যা০৭:১০ মিনিট
তূর্ণা ৭৪১ রাত ১১:০০ মিনিট ভোর ০৫:১৫ মিনিট
চট্টলা এক্সপ্রেস ৮০২ সকাল ০৮:৩০ মিনিট বিকাল ০৩:৫০ মিনিট

মনে রাখবেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে সময় পরিবর্তন করতে পারে, তাই যাত্রার আগে অবশ্যই রেল সেবা অ্যাপ বা স্টেশনে খোঁজ নিন।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের টিকিটের ভাড়া (Fare List)

আপনার বাজেট এবং পছন্দের সিটের ধরন অনুযায়ী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

আসন শ্রেণী ভাড়া
শোভন চেয়ার ( S-CHAIR ) ৩৪৫ টাকা
স্নিগ্ধা এসি সিট ( SNIGDHA ) ৮০৫ টাকা
শোভন ( SHOVAN ) ১০০-২০০ টাকা
এসি সিট কেবিন ( AC-S ) ৯০৫ টাকা
এসি কেবিন বাথ ( AC-B ) ১১৮০ টাকা
০১ম শ্রেণী চেয়ার ( F-SEAT ) ৪০৫ টাকা
০১ম শ্রেণী কেবিন ( F-BERTH ) ৭৯০ টাকা

দ্রষ্টব্য: ভাড়ার হার যেকোনো সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিবর্তন করতে পারে।

অনলাইনে ট্রেন টিকেট কাটার নিয়ম (Dhaka to Chittagong Train Ticket and Schedule)

ট্রেন ট্র্যাকিং পদ্ধতি

আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় আছে তা জানতে ট্রেন ট্র্যাকিং করা খুবই জরুরি। ট্র্যাকিং করতে আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
TR <Space> Train Number (যেমন: TR 813) এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নাম্বারে। ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও সময় জানতে পারবেন।

চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানসমূহ (Sightseeing in Chittagong )

ট্রেনে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর আপনি কোন কোন জায়গা ঘুরতে পারেন? আপনার জন্য সেরা কিছু জায়গার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত: চট্টগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। সূর্যাস্ত দেখার জন্য এটি সেরা জায়গা।
  • ফয়ে’স লেক (Foy’s Lake): পাহাড় আর লেকের অপূর্ব সমন্বয়। এখানে থিম পার্ক এবং ওয়াটার পার্কের মজাও নিতে পারেন।
  • নেভাল বিচ: কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত এই জায়গাটি বিকেল কাটানোর জন্য চমৎকার।
  • গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত: সীতাকুণ্ডে অবস্থিত এই সৈকতটি তার সবুজ ঘাস আর আঁকাবাঁকা খালের জন্য বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়।
  • ওয়ার সিমেট্রি (War Cemetery): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত এই জায়গাটি অত্যন্ত শান্ত ও সুন্দর।
  • সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও চন্দ্রনাথ পাহাড়: যারা ট্রেকিং ভালোবাসেন, তারা সীতাকুণ্ডের পাহাড় ও ঝরনা ঘুরে আসতে পারেন।

যাত্রীদের জন্য জরুরি কিছু টিপস

  • অগ্রিম টিকিট: ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই যাত্রার ১০ দিন আগেই টিকিট কেটে রাখা নিরাপদ।
  • আইডি কার্ড সাথে রাখুন: রেলওয়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টিকিট যার নামে কাটা হয়েছে, তার এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি বা ডিজিটাল কপি সাথে রাখা জরুরি।
  • স্টেশনে উপস্থিতি: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
  • সতর্কতা: ট্রেনের ভেতরে জানলার পাশে বসার সময় মোবাইল বা মূল্যবান জিনিসের প্রতি খেয়াল রাখুন।

স্ট্যান্ডিং টিকিট বা আসনবিহীন টিকিট

যদি কোনো কারণে সিট টিকেট না পান, তবে ট্রেন ছাড়ার অল্প সময় আগে স্টেশন কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত মোট আসনের ২৫% স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু করা হয়। তবে দীর্ঘ যাত্রায় দাঁড়িয়ে যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য হতে পারে।

টিকিট রিফান্ড পলিসি

  • যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে ফেরত দিলে সার্ভিস চার্জ বাদে বাকি টাকা পাবেন।
  • ৪৮ ঘণ্টার কম কিন্তু ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে ২৫% টাকা কাটা হবে।
  • ২৪ ঘণ্টার কম কিন্তু ১২ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে ৫০% টাকা কাটা হবে।
  • ০৬ ঘণ্টার কম সময় থাকলে কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।

রেলওয়ের প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার

জরুরি প্রয়োজনে নিচের নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন:

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
ফোন: ০২-৯৩৫৮৬৩৪
মোবাইলঃ ০১৭১১৬৯১৬১২

পার্সেল ও লাগেজ বুকিং

আপনি যদি বড় কোনো মালামাল বা পার্সেল সাথে নিতে চান, তবে ট্রেনের পার্সেল ভ্যানে তা বুকিং করতে পারেন। এর জন্য আলাদা চার্জ প্রযোজ্য। প্রতিটি টিকেটের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের লাগেজ বিনামূল্যে বহন করা যায়, তবে অতিরিক্ত ওজনের জন্য বুকিং আবশ্যক।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

আরো পড়ুন

Scroll to Top