ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া ও অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ নিয়ম!

দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট! চায়ের পাহাড়, ঝরনার শব্দ শুনতে কার না ভালো লাগে? দেশের সবচেয়ে চিত্রময় ভ্রমণ পথগুলোর একটি হলো ঢাকা থেকে সিলেটের ট্রেন যাত্রা। ট্রেনের জানালায় মাথা রেখে, তবে তো সোনায় সোহাগা। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আপনি কি প্রিয়জনদের নিয়ে বা একাই বৃহত্ত্বর সিলেটের অপার সৌন্দর্যে হারিয়ে যেতে চান? তাহলে আজকের এই ব্লগটি আপনার জন্য। এই আর্টিকেলে আমরা Dhaka to Sylhet Train Ticket and Schedule সময়সূচী, ভাড়া এবং প্রয়োজনীয় সব খুটিনাটি তথ্য নিয়ে আলোচনা করব। 

প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সিলেট সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ঢাকার ব্যস্ততা কাটিয়ে চা বাগানের সতেজতা পেতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন সিলেটে ভ্রমণ করেন। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট রুটে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেন চলাচল করে। ট্রেনের এই যাত্রা আপনাকে দেবে শালবন আর পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার যাবতীয় তথ্য।

ঢাকা থেকে সিলেট সময়সূচী

ঢাকা (কমলাপুর) থেকে সিলেট রুটে বর্তমানে ৪টি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। আপনার সুবিধামতো নিচের টেবিল থেকে সময় দেখে নিন:

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী:
ট্রেনের নাম ট্রেন নং ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় সিলেট পৌঁছানোর সময় সাপ্তাহিক ছুটি
পারাবত এক্সপ্রেস ৭০৯ সকাল ০৬:২০ মিনিট দুপুর ০১:০০ মিনিট মঙ্গলবার
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ৭১৭ সকাল ১১:১৫ মিনিট সন্ধ্যা ০৭:০০ মিনিট নেই
কালনী এক্সপ্রেস ৭৭৩ দুপুর ০২:৫৫ মিনিট রাত ০৯:৩০ মিনিট শুক্রবার
উপবন এক্সপ্রেস ৭৩৯ রাত ১০: ০০ মিনিট ভোর ০৫: ০০ মিনিট বুধবার
সিলেট টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী:
ট্রেনের নাম ট্রেন নং সিলেট থেকে ছাড়ার সময় ঢাকা পৌঁছানোর সময় সাপ্তাহিক ছুটি
পারাবত এক্সপ্রেস ৭১০ বিকাল ০৩:৪৫ মিনিট রাত ১০:৪০ মিনিট মঙ্গলবার
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ৭১৮ সকাল ১২:০০ মিনিট সন্ধ্যা ০৭:২৫ মিনিট নেই
কালনী এক্সপ্রেস ৭৭৪ সকাল ০৬:১৫ মিনিট দুপুর ০১:০০ মিনিট শুক্রবার
উপবন এক্সপ্রেস ৭৪০ রাত ১১:৩০ মিনিট ভোর ০৫: ৪৫ মিনিট বুধবার

মনে রাখবেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে সময় পরিবর্তন করতে পারে, তাই যাত্রার আগে অবশ্যই রেল সেবা অ্যাপ বা স্টেশনে খোঁজ নিন।

ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের টিকিটের ভাড়া (Fare List)

আপনার বাজেট এবং পছন্দের সিটের ধরন অনুযায়ী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

আসন শ্রেণী ভাড়া
শোভন চেয়ার ( S-CHAIR ) ৩৮০ টাকা
স্নিগ্ধা এসি সিট ( SNIGDHA ) ৭২০ টাকা
শোভন ( SHOVAN ) ২০০-৩০০ টাকা
এসি সিট কেবিন ( AC-S ) ৮৭০ টাকা
এসি কেবিন বাথ ( AC-B ) ১২৯০ টাকা
০১ম শ্রেণী চেয়ার ( F-SEAT ) ২০০/৩০০ টাকা

দ্রষ্টব্য: ভাড়ার হার যেকোনো সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিবর্তন করতে পারে।

যাত্রা পথে প্রধান স্টপেজ বা বিরতি

থেকে সিলেট যাওয়ার পথে এই ট্রেনগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে। ট্রেনের ধরণভেদে বিরতি ভিন্ন হতে পারে:

  • ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন
  • ভৈরব বাজার
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • শায়েস্তাগঞ্জ শ্রীমঙ্গল (সবচেয়ে জনপ্রিয় স্টপেজ)
  • কুলাউড়া

অনলাইনে ট্রেন টিকেট কাটার নিয়ম (Dhaka to Sylhet Train Ticket and Schedule)

ট্রেন ট্র্যাকিং পদ্ধতি

আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় আছে তা জানতে ট্রেন ট্র্যাকিং করা খুবই জরুরি। ট্র্যাকিং করতে আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
TR <Space> Train Number (যেমন: TR 813) এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নাম্বারে। ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও সময় জানতে পারবেন।

সিলেটের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানসমূহ (Sightseeing in Shylet )

সিলেট পৌঁছানোর পর আপনার ঘোরার তালিকায় যা যা রাখতে পারেন:

হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (র.) মাজার: আধ্যাত্মিক শান্তির জায়গা।
জাফলং: পিয়াইন নদীর তীরে পাথরের সৌন্দর্য।
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট: বাংলাদেশের একমাত্র জলমগ্ন বন।
বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই: পাহাড় আর ঝরনার মিতালি।
শ্রীমঙ্গলের চা বাগান: মাইলের পর মাইল সবুজ চায়ের বাগান।
লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: বন্যপ্রাণী ও ঘন জঙ্গল দেখার জন্য সেরা জায়গা।

যাত্রীদের জন্য জরুরি কিছু টিপস

আগে টিকেট কাটা: বর্তমানে প্রায় সকল রুটেই ট্রেনের টিকেটের চাহিদা অনেক বেশি, তাই ভ্রমণের ১০-১৫ দিন আগেই টিকেট কেটে রাখুন।

  • লাগেজ: অতিরিক্ত লাগেজ বহন না করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রই সঙ্গে রাখুন।
  • অগ্রিম টিকিট: উত্তরবঙ্গের এই রুটে টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টা বাজার সাথে সাথে টিকিট কাটার চেষ্টা করুন।
  • আইডি কার্ড সাথে রাখুন: রেলওয়ের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ভ্রমনের সময় মূল এনআইডি (NID) কার্ড বা তার ছবি ফোনে রাখা বাধ্যতামূলক।
  • খাবার ও পানি: ট্রেনে খাবার পাওয়া যায় তারপরও নিজস্ব পানির বোতল এবং শুকনো খাবার সাথে রাখুন।
  • নিরাপত্তা: ট্রেনে আপনার মালামাল ও মোবাইলের দিকে খেয়াল রাখুন। অপরিচিত কারো দেওয়া কিছু খাবেন না।
  • সময় জ্ঞান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
  • পরিচ্ছন্নতা: ট্রেনের ভেতরে বা রেলওয়ে স্টেশনে ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

স্ট্যান্ডিং টিকিট বা আসনবিহীন টিকিট

যদি কোনো কারণে সিট টিকেট না পান, তবে ট্রেন ছাড়ার অল্প সময় আগে স্টেশন কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত মোট আসনের ২৫% স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু করা হয়। তবে দীর্ঘ যাত্রায় দাঁড়িয়ে যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য হতে পারে।

টিকিট রিফান্ড পলিসি

  • যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে ফেরত দিলে সার্ভিস চার্জ বাদে বাকি টাকা পাবেন।
  • ৪৮ ঘণ্টার কম কিন্তু ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে ২৫% টাকা কাটা হবে।
  • ২৪ ঘণ্টার কম কিন্তু ১২ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে ৫০% টাকা কাটা হবে।
  • ০৬ ঘণ্টার কম সময় থাকলে কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।

রেলওয়ের প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার

জরুরি প্রয়োজনে নিচের নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন:

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
ফোন: ০২-৯৩৫৮৬৩৪
মোবাইলঃ ০১৭১১৬৯১৬১২

পার্সেল ও লাগেজ বুকিং

আপনি যদি বড় কোনো মালামাল বা পার্সেল সাথে নিতে চান, তবে ট্রেনের পার্সেল ভ্যানে তা বুকিং করতে পারেন। এর জন্য আলাদা চার্জ প্রযোজ্য। প্রতিটি টিকেটের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের লাগেজ বিনামূল্যে বহন করা যায়, তবে অতিরিক্ত ওজনের জন্য বুকিং আবশ্যক।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

আরো পড়ুন

Scroll to Top